গাজীপুরে অভিনব কৌশলে অর্থ আদায় গ্রেপ্তার-৭ ॥ ব্ল্যাকমেইলের স্বীকার পুলিশ সদস্য
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুর সদর থানাধীন কাজিমুদ্দিন স্কুল ও কলেজ রোড, ওয়ার্ড নং- ১৫। শাহ আলমের বাড়ীর তৃতীয় তলায় পুলিশ সদস্য মোঃ আমীর হোসেন (আর আর এফ) কে অপরিচিত মেয়ে দ্বারা সুকৌশলে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
গত বুধবার ২০/১২/২০১৭ ইং বিকাল ৩ ঘটিকায় দিকে এ ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হারুন অর রশিদ বৃহস্পতিবার দুপুরে তার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, চান্দনা চৌরস্তিা সংলগ্ন ভোগড়া এলাকা থেকে বুধবার বিকালে জিম্বি চক্রের সক্রিয় ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন জয়দেবপুর থানার পুলিশ।
অভিনব কায়দায় জিম্বিচক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবৎ এ ধরনের অপরামূলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তাদেরকে হাতে নাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের নির্ধারিত এলাকা সনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ১নং আসামী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (২৪) পিতা সোলায়মান গনি, হাতিবান্ধা লালমনিরহাট। (২) আইয়ুব আলী (২৯) পিতাঃ মোঃ ইসমাইল আলী সন্ন্যাসীরচর শেরপুর জেলা সদর, শেরপুর (৩) মোঃ এরশাদ আলী (২৮) পিতাঃ মোসলেম উদ্দিন, জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার ঢালিবাড়ী গ্রাম। (৪) মোঃ মাসুদ রানা (৩০) পিতাঃ মোঃ শাহজাহান আলী সাং- বলিভদ্র, থানা- ধনবাড়ী, জেলা- টাঙ্গাইল (৫) মোঃ শামীম হোসেন (৪৫) পিতা- শাহ আলম সরকার, সাং- হোসনাবাদ, থানা- গৌরনদী, জেলা- বরিশাল (৬) মোছা- রতœা বেগম (৪৫) স্বামী- মাসুদ রানা, সাং- বোনারপাড়া, থানা-সাঘাটা, জেলা- গাইবান্ধা (৭) মোছা- রুপা বেগম (২০) পিতা-মোঃ হামিদুল, সাং- বোনারপাড়া, থানা-সাঘাটা, জেলা- গাইবান্ধা। জয়দেবপুর থানার মামলা নং- ৯৬/১৯৯৫ তারিখ-২১/১২/২০১৭।
পুলিশ সদস্য জনাব আমির হোসেন এর সঙ্গে পূর্ব পরিচয়ের সুত্র ধরে একান্ত ব্যক্তিগত কথা আছে বলে, আমিরকে শাহআলমের বাড়ীর তৃতীয় তলায় একটি রুমে নিয়ে যায়, শ্যামলা। কিছুক্ষন বসার পর পরিচয় হয় রুপা (২০) এর সঙ্গে। নাদুস নোদুস চেহেরা। অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দিলে পুলিশ সদস্য আমির রাজি হয়। রুপা (২০)ও আমিরকে রুমে ঢুঁকিয়ে দিয়ে শ্যামলা বাহিরে অবস্থান নেয়। ১৫-২০ মিনিট পর সক্রিয় জিম্বিকারী সদস্যরা তৃতীয় তলায় উঠে তাদের দুজনকে অশ্লিল আপত্তিকর অবস্থায় পেয়ে ছবি তোলেন তারা। সংঘবদ্ধ চক্রদল আমির কে বিভিন্œ ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ৫০০০(পাঁচ হাজার) টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর আরোও ৮০০০০ (আশি হাজার) টাকা দাবী করে। একপর্যায়ে আমিরকে চাপ সৃষ্টি করে সাদা কাগজও ব্ল্যাংক ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। স্বাক্ষর শেষে ২০-২৫ মিনিট সময় নির্ধারন করেদেন।
উক্ত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট কয়েকটি বিকাশ নাম্বারে টাকা না আসলে তাকে (আমির) কে খুন করার হুমকি সহ পত্রপত্রিকায় নগ্ন ছবি প্রকাশ করা হবে। নিরুপায় পুলিশ সদস্য কৌশলে পরিচিত পুলিশ অফিসারকে এস,এম,এস এর মাধ্যমে বিকাশ নম্বর পাঠালে তাৎক্ষনিক ভোগড়া বাইবাস পুলিশ ফাঁরির ও জয়দেবপুর থানার পুলিশ যৌথভাবে পুলিশ আমিরকে উদ্ধার করেন।
ঘটনাস্থল থেকে ১টি ল্যান্স ক্যামেরা, ৩টি ব্ল্যাংক চেক, ১০টি লিখিত ও অলিখিত ষ্ট্যাম্পসহ নগদ ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা পাওয়া যায়। জানা যায় মাসুদ রানা (আসামী) ঘটনা জানতে গিয়ে ফেঁসে যায়। অন্যান্য আসামীরা মাসুদ রানাকে চেনেন ও জানেন এবং উক্ত ন্যাক্কার জনক কাজের সাথে সেও জড়িত জানলে পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তার করেন।
এদিকে জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, সংশ্লিষ্ট কাজের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।(১) এ আর মজিদ শরীফ (২) তানজির আলম সোহেল (৩) মনিরুজামান মনির (৪) মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৫) মোঃ মহিউদ্দিন (৬) এস,এম শহীদ ও মোঃ হালিশ।
উক্ত মামলার তদন্ত অফিসার হিসেবে ভোগড়া বাইপাস পুলিশ ফাঁড়ির চৌকস ইনচার্জ জনাব- মোঃ জাকির হোসেন দায়িত্ব প্রাপ্ত হন।